আদিপুস্তক ১:১১–৩১ — গাছপালা, প্রাণী ও মানুষ
তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ দিনে জীবন বিস্তার পায়, আর নারী ও পুরুষ উভয়েই ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে সৃষ্ট হন।
অনুবাদের কপিরাইট সম্মান করে এখানে সম্পূর্ণ অধ্যায় না তুলে পদসূত্র ও মৌলিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিজের বাইবেল খুলে পড়ুন।
১১–১৩ পদ: গাছপালা ও বীজ
হিব্রুতে ঘাস, বীজধারী উদ্ভিদ ও ফলের গাছ প্রাচীন পর্যবেক্ষণের বিভাগ। ‘নিজ নিজ প্রকারে’ (মিন) আধুনিক জীববিজ্ঞানের species শব্দের অবিকল সংজ্ঞা নয়।
তৃতীয় দিনে ‘ভালো’ দুবার বলা হয়েছে। সাহিত্যিক ব্যাখ্যা সম্ভব, কিন্তু লেখক সরাসরি কারণ বলেননি।
১৪–১৯ পদ: জ্যোতিষ্ক
ওর মানে আলো, মেওরোত আলোকদানকারী বস্তু। দিন-রাত্রি, ঋতু ও বছরের চিহ্ন হওয়া মানে জ্যোতিষের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণের অনুমতি নয়।
সূর্য-চাঁদ সৃষ্ট বস্তু, দেবতা নয়। ‘সৃষ্টি করলেন’কে জোর করে ‘শুধু মেঘের আড়াল থেকে দেখা দিল’ অর্থে সীমিত করা উচিত নয়।
২০–২৫ পদ: জীবিত প্রাণী
নেফেশ হায়্যাহ মানে জীবন্ত প্রাণী এবং পশুপাখির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; কেবল মানুষের অমর আত্মার বিশেষ নাম নয়। তান্নিনিম বড় সামুদ্রিক প্রাণী, নির্দিষ্ট আধুনিক প্রজাতির নাম নিশ্চিত নয়।
ঈশ্বর মাছ ও পাখিকেও বংশবৃদ্ধির আশীর্বাদ দেন এবং স্থলচর প্রাণীকে ভালো বলেন। মানুষের উপকারেই প্রাণীর সব মূল্য সীমাবদ্ধ নয়।
২৬–২৭ পদ: ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি
‘আমরা মানুষ সৃষ্টি করি’ কথার স্বর্গীয় সভা ও পরবর্তী ত্রিত্ববাদী পাঠসহ বিভিন্ন ব্যাখ্যা আছে; বহুবচন একাই সমস্ত ত্রিত্ববাদ প্রমাণ করে না। ত্সেলেম ও দেমুত প্রতিমূর্তি ও সাদৃশ্য নির্দেশ করে।
নারী ও পুরুষ উভয়ে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতে তৈরি। পাপের পরও মানবজীবনের মর্যাদার ভিত্তি তা-ই (আদিপুস্তক ৯:৬)।
২৮–৩১ পদ: দায়িত্বসহ কর্তৃত্ব
কাবাশ ও রাদাহ কর্তৃত্ব বোঝালেও তা ঈশ্বর-প্রদত্ত দায়িত্ব; ২:১৫-এর রক্ষা ও চাষের কাজের সঙ্গে পড়তে হবে। বংশবৃদ্ধির আশীর্বাদ প্রত্যেক ব্যক্তিকে সন্তান নেওয়ার জোরপূর্বক আদেশ নয়।
উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পতনের আগে প্রাণীদের সব মৃত্যুর প্রশ্নের সরাসরি বৈজ্ঞানিক উত্তর এখানে নেই। শেষে সমগ্র সৃষ্টি ‘অতি উত্তম’ বলে ঘোষিত।
মানুষের মর্যাদা এবং প্রকৃতির প্রতি তার দায়িত্ব একই ঈশ্বর-দত্ত আহ্বানের অংশ।
ভাবনার প্রশ্ন
এগুলো ভাবনার প্রশ্ন, লেখকের বানানো ব্যক্তিগত সাক্ষ্য নয়।
01ঈশ্বরের সৃষ্টিকে দায়িত্ব নিয়ে কীভাবে ব্যবহার করব?
তথ্যসূত্র
হিব্রু শব্দ ও ভিন্ন ব্যাখ্যা যাচাইয়ের জন্য সূত্র দেওয়া হয়েছে; সব গবেষকের পূর্ণ সম্মতি বোঝায় না।
01Genesis 1 — Masoretic Hebrew text (Mechon-Mamre)02Genesis 1 — NET Bible textual and translation notes03Gordon J. Wenham, Genesis 1–15 (Word Biblical Commentary)04BibleProject — Book of Genesis